পথ, পথিক, প্রিয়জন

যে দিন, মানুষ আর সময় এখনও বড় কিছু ভাবতে শেখায় ।

প্রতিদিন সকালে প্রচন্ড ঝাঁকুনি খেতে খেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নষ্ট পিচঢালা রাস্তার অবিভাবক নেই বল্লেই চলে। বেচারার চুল পেকে গেছে, চামরা থেঁতলে গেছে কেউ এসে আদর করে চুল আছড়ে দেবে চামরাটা একটূ মসৃন হউক ভেবে জল ঢেলে দেবে এমন কেউই কোথাও নেই । রিক্সাওয়ালাটার সাথে প্রতিদিন ভাড়া নিয়ে ক্যাচাল করতে হয় এই ছাল উঠা রাস্তাদের কারনে। একটা সময় ছিলো ভাড়া না বলে হুট করে রিক্সায় উঠে যেতাম । নেমে গিয়ে বিশটাকার নোট হাতে ধরিয়ে সাহেবী ভাব নিয়ে রিক্সা থেকে নেমে পরতাম । এখন আর তেমনটা হয়না । এভাবে নামতে গেলেই রিক্সা চালক বলে বসে মামা আর দশটা টাকা দেন । দিতে হয়। না দেওয়াটাই পাপ। রাস্তাগুলোকে আমরা প্রতিদিন থেঁতলে দিয়েছি। কেউ কেউ টাকা না দিয়ে রিক্সাওয়ালার মুখ থেঁতলে দেয় । নিজের হাতের পাচ আঙুলের  চিহ্ন রিক্সাওয়ালার গালে এঁকে দিয়ে নিজেকে জমিদার ভাবাটা এই দেশের কালচার । 

অনেক বছর আগের কথা । তখন গ্রামে থাকতাম । ধরতে গেলে তখনও শৈশবের দিনগুলি পার করছি । ঢাকার মতিঝিলে এসেছিলাম একটি গানের কম্পিটিশনে অংশ নিতে । দুদিন কেটে গেল । শেষের দিন দুপুর দুটোর সময় গ্রামের পথে বাসে চেপে বসলাম । জেলা শহরে পৌছাতে পৌছাতে রাত আটতা বেজে গেলো । গ্রামের পথ অনেকটাই নির্জন কোন রকম থানা শহরে টেম্পোতে করে পৌছালাম । এবার বাড়ী যাবার পালা। আধা ঘন্টা বসেও কোন রিক্সা পেলামনা । তখন প্রায় রাত দশটা বাজে হঠাৎ একজন রিক্সাওয়ালা খুব কম দামেই যেতে রাজি হল । চেপে বসলাম । বাসার কাছাকাছি এসেছি । কিন্তু তখনও অনেক পথ বাকি আমার । আমি ছোট বয়সটা কম । খুব টেনশন হচ্ছিল একা এই রাস্তায় খোলা মাঠ ধরে বাসায় পৌছাবো কি করে । রিক্সাওয়ালা হয়তো আমার অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পেরেছিল আমার মনের অবস্থা । তিনি হুট করে বললেন চলেন আপনাকে দিয়ে আসি । আমি ইতস্তত করে বললাম । দরকার নেই মামা । আপনার রিক্সা হারিয়ে যাবে। তিনি বললেন । সমস্যা নেই । আমাদেরই এলাকা হারিয়ে গেলেও পেয়ে যাবো । আমি যেনো চাঁদ হাতে পেলাম । আমাকে বাড়ী পর্যন্ত যত্ন করে পৌছে দিয়েই তিনি অপেক্ষা না করে ফিরে গেলেন । পরের দিন থানা শহরে কোন দরকারে এসেছিলাম । মনে মনে সেই মামাকে খুজলাম কিন্তু কোথাও পেলামনা । আজ প্রায় পনেরো বছর কেটে গেলেও সেই রিক্সাওয়ালার সাথে আর দেখা হয়নি । মনের ভেতর বিশাল বড় জায়গা করে নিয়ে বাস্তব থেকে তিনি কোথায় উধাও হয়ে গেলেন আমার জানা নেই । শহরে এসে কোন রিক্সাওয়ালার গালে পাঁচ আঙুলের চিহ্ন কেউ এঁকে দিলেই মনটা হু হু করে উঠে । জীবনের কত ছোট ঘটনা কত বড় মন তৈরি করতে পারে ঐ রাত যদি জীবনে না আসতো তাহলে হয়তো জানাই হতোনা  । 


adana escort eryaman escort adana escort mersin escort eryaman escort mersin escort eryaman escort mersin escort mersin escort adana escort eryaman escort adana escort